17/12/2018

সাংবাদিকতা : ধর্ম ও নৈতিকতা

সংবাদ মূলত মুদ্রণজগৎ, সম্প্রচার কেন্দ্র, ইন্টারনেট অথবা তৃতীয় পক্ষের মুখপাত্র কিংবা গণমাধ্যমে উপস্থাপিত বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আর যিনি বা যারাই বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহপূর্বক সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন রচনা করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন তাকে বা তাদেরকে সাংবাদিক বলে। আরও একটু ভালো করে বললে; সাংবাদিকরাই সমাজের আয়না বা বিবেক। যার মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে জাতির সামনে। কিন্তু তা আজ কই? 

আজকের দিনে সাংবাদ ও সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। সর্বত্র দেখা মিলছে সাংবাদিকগণদের নৈতিকতার পদস্খলনের জন্য তারাও আজ শব্দ সন্ত্রাসের স্বীকার। সমাজে আজ তাদেরকে সাংবাদিক না বলে “সাংঘাতিক” নামে সম্বোধন করা হচ্ছে অহরহ। এখন কথা উঠতে পারে আয়নার প্রতিবিম্বের ধাতু প্রলেপ কি কম হয়ে গেলো? না কি রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ফাঁদে পড়ে সাংবাদিকরা নৈতিকতা হারালো? 

আসলে, প্রত্যেক দেশে গণমাধ্যমের একটা নীতিমালা থাকে। অর্থাৎ গণমাধ্যম কী প্রচার করবেন, কী প্রচার করবেন না ইত্যাদি। এই নীতিমালা গ্রহণের ব্যাপারে গণমাধ্যম মোটামুটি স্বাধীন থাকে। কিন্তু  কোনো গণমাধ্যম ইচ্ছে করলেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। সাম্প্রদায়িকতার পক্ষেও অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এগুলো গণমাধ্যমের নীতি বিবর্জিত। কিন্তু তাও আর কই?

বলাই বাহুল্য; আজ বিবেক ও নৈতিকতা বিবর্জিত সাংবাদিকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান আর তারা চেতনার ত্যানা এমনভাবে পেঁচিয়ে রেখেছে একদিকে একটু ঘর্ষণ লাগলেই আর একদিকে গরম হয়ে উঠতে তাদের সময় লাগেনা রাজনৈতিক মদদপুষ্টতার কারণে। 

শোনা যায়, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকরা অনেকটাই স্বাধীন, তবে সাংবাদিকদের একেবারেই কোনো স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিকরা নিজেদের ইচ্ছেমত যা দেখেছেন, তা লিখতে পারেন না। মালিকরা যেভাবে চান সাংবাদিকরা সেভাবেই লিখতে বাধ্য হন। আপাত দৃষ্টিতে এগুলোর অনেক সত্যতা থাকলেও আমি তা মানতে নারাজ।

তাছাড়া কোনো একটি বিগ ইস্যুতে অনেক রাজনৈতিক দল বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরা এসে সম্পাদকের ডেস্কের সামনে কুন্ডলি পাকিয়ে বসে থাকে ডার্টি জব করার জন্য। এসময় কোনো রকম উদ্ধৃতি ছাড়া; সাংবাদিকতার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকাশ করে সংবাদ। এসব কথা আজ সাংবাদিক ভাইরা বলে থাকেন জোর গলায়।

আসলে কি তাই? আমাদের সমাজের দর্পণদেরা কি ধোঁয়া তুলসির পাতা? জনগনও বোঝে ডিফেমেশান বলে যে একটা বে-আইনী ব্যাপার আছে; সেটা কি আমাদের দর্পণ ভাইয়েরা বোঝে না? বোঝে!

আসল ব্যাপারটা কিন্তু এমন; শিক্ষা-দীক্ষা ও সাংস্কৃতিক নিন্মরুচি এবং লোভ ও ভয়ে আক্রান্তদের ভিড়ে মহান ও শক্তিশালী এ পেশার সাংবাদিকতা হারাচ্ছে তার ধর্ম ও নৈতিকতা। আমাদের সাংবাদিক ভাইরা যে তৃণমূলের অক্ষ শক্তি। তারা কিন্তু এ কথাকে ভুলে গেছে তাদের লোভের কাছে, প্রতিশোধের কাছে ও ভয়ের কাছে! তাই তারা আজ সাংঘাতিক তৈরীর কারখানা মালিকদের বৃত্তে বন্দি!

নৈতিকতা হারানো কিছু ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক তাদের প্রচারে নিজের ঢোল নিজে বাজানো নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় সর্বক্ষন। প্রশাষন কিংবা রাজনৈতিক কোন ব্যাক্তিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে প্রকাশ পায় তাদের ভাবের সেলফি। তারা বোঝাতে চায় দেখুন আমি কত বড় সাংবাদিক।

আবার অনেক সাংবাদিক আছে তারা তাদের নামের আগে সাংবাদিক শব্দটি না উল্লেখ করলে রেগে কালচে টমেটোর মত হয়ে যায়। কাউকে তো আবার সামনের চেয়ার না দিলে দেখে নেওয়ার হুমকিও পাওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে। এগুলো কোন সাংবাদিকের লক্ষণ? 

এবার আমরা যদি একটু সাংবাদিকতার দুর্বৃত্তায়নের দিকে তাকাই তবে প্রথমে ভেসে আসে হলুদ সাংবাদিকতা। যার জন্য দেশের অর্থনিতীতে অবদান রাখা সূর্য সন্তানদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ সংবাদ বানানো বা প্রচার করতেও দ্বিধা করছে না তারা।

আমাদের দেশে বর্তমানে সাংবাদিকদের মধ্যে এক শ্রেনীর সাংবাদিক আছে, যারা সাংবাদিকতা পেশাটাকে অবৈধ আয়ের পূজি হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। বাস্তবতা হচ্ছে এমন, অনেক সিনিয়র সাংবাদিকরা নিজেরা চাঁদাবাজি করতে না পেরে জুনিয়ার সাংবাদিকদের দিয়ে চাঁদাবাজির এ কাজ গুলো করায়। যদি কোনো কারণে জুনিয়র সাংবাদিকটি মামলা খায় তাহলে তদবিরে নেমে পড়েন আমাদের সিনিয়র সাংবাদিক ভাইরা এবং প্রশাসনও তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ওই তদবিরে মজে যায় ফলে সমাজের তথা দেশের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। 

এই সকল হলুদ সাংবাদিকদের কোন রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা, আইন কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান কোন কিছুই নেই। তারা সাংবাদিক নাম ব্যবহার করে এবং সংবাদ মাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আইডি কার্ড বানিজ্যে লিপ্ত থাকে। আর আজকালতো মোটরবাইকের নেমপ্লেটে লাইসেন্সের বদলে লিখে রাখে সাংবাদিক।

উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপন করা আর প্রশাসনের সুনজর আশা করা তাদের এ উদ্দেশ্য।

আর আজকের দিনের ফেসবুক পাতায় অনলাইন সংবাদ শিরোনাম দেখে তো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বল্গাহীন এ ধরনের সাংবাদিকতায় ভালমত গবেষণা বা খোঁজ-খবর না করেই দৃষ্টিগ্রাহী ও নজরকাড়া শিরোনামে কাটতি নিউজ করতে তারা মরিয়া। এগুলোকে তাহলে কি বলবেন?

আসুন বলার আগে জেনে নিই হলুদ সাংবাদিকতা বা ইয়েলো জার্নালিজম কি? আর এর শুরুর ইতিহাস কি? তাহলে বুঝবেন সংবাদে এখন কেমন রং মাখানো হয়!

হলুদ সাংবাদিকতা বা ইয়েলো জার্নালিজম প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করা হয় উনিশ শতকের শেষের দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক জার্নালের সম্পাদক উইলিয়াম র্যান্ডলফ হার্স্ট এবং নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের সম্পাদক জোসেফ পুলিৎজারের মধ্যকার বিখ্যাত “সংবাদপত্র যুদ্ধের” সময়।

এই দুটো পত্রিকা সেনসেশনাল স্টোরি এবং অনেক বেশি ড্রয়িং ও কার্টুন ব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদপত্রের বিষয়বস্তু বদলে দিয়েছিল। যেহেতু অনেক বেশি কার্টুন প্রকাশিত হচ্ছিল তখন, পুলিৎজার ১৮৯৬ সালে নিজের একটি কার্টুন প্রকাশ করতে শুরু করেন যার নাম ছিল “ইয়েলো কিড”।

কার্টুনটি আর. এফ. আউটকাল্টের সৃষ্টি ছিল এবং এটি হার্স্ট আর পুলিৎজারের শত্রুতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়। হার্স্ট পরবর্তীতে আউটকাল্টকে “ভয়ংকর বেশি পরিমাণ” বেতন অফার করেন এবং তাঁকে ও ইয়েলো কিডকে নিজের পত্রিকার জন্য কিনে নেন। পুলিৎজার এরপর ইয়েলো কিডের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য ঠিক এর মতোই একটি কার্টুন প্রকাশ করতে শুরু করে।

এই পত্রিকা দুটোর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার ফলে তারা মেলোড্রামাটিক সংবাদ প্রকাশ করতে শুরু করে এবং সংবাদগুলো এমনভাবে পরিবর্তন করে দিতে থাকে যা পত্রিকার বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করবে। তারা মনোরঞ্জক ও সংবেদনশীল সংবাদ দিয়ে পত্রিকা সাজাতো যাতে হকাররা রাস্তায় এসব সংবাদ দেখিয়ে পাঠক আকৃষ্ট করতে পারে।

এই পত্রিকা দুটো নিজেদের সংবাদকাহিনীগুলোকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে এবং প্রতিপক্ষের সংবাদকাহিনীগুলোকে হেয় করতে “ইয়েলো কিড” এর ব্যবহার করতো। এছাড়া এই বিখ্যাত কার্টুনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হত। মোদ্দা কথা হলো, সেই সময়কার সংবাদপত্রগুলো বস্তুনিষ্ঠতা নামক শব্দটার ধারকাছ দিয়েও যেতো না।

আর হলুদ সাংবাদিকতা; পুলিৎজার ও হার্স্টের মধ্যকার সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে যে সত্য ও মিথ্যার তোয়াক্কা না করে নিউ ইয়র্ক জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমস কেবল উত্তেজক, অতিরঞ্জিত সংবাদই প্রকাশ করতো। আর এই উত্তেজক, অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশে “ইয়েলো কিড” নামক কার্টুনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো বলে পরবর্তীতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন, রোমাঞ্চকর, উত্তেজক সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকে “ইয়েলো কিড” এর ইয়েলো ধার নিয়ে “ইয়েলো জার্নালিজম” বা হলুদ সাংবাদিকতা বলে ডাকা শুরু হয়।

হলুদ সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, প্রমান ছাড়া পত্রিকায় লেখালেখি করা। আপনি যদি কোন পত্রিকা পড়েন, দেখতে পাবেন যার বিরুদ্বে কোন নিউজ করা হয়, তারা কারন দেখাবে এই লোককে টেলিফোন করা হয়ছে তার মুঠো ফোন বন্ধ ছিল বলবে। সোর্স উল্লেখ না করে বিশস্থ বা গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানাগেছে লিখবে। আসলে, এগুলোকি সাংবাদিকের এথিক্স? 

আসলে এটামূলত "নেই কাজ তো খৈ ভাঁজ"-এর মত অবস্থা। আমি তো সাংবাদিক আমাকে তো লিখতেই হবে। বসে থাকলে চলবে কেন? তা না হলে লোকে বলবে তুই কিসের সাংবাদিক? মাছি মারা কেরানি সাংবাদিক নি। তাই আর কি!  

আসলে প্যাশন মার্কা হলুদ এ সাংবাদিকদের অবস্থা 'চোখের নেশা'র বেশ্যাদের খদ্দের ধরার নেশার প্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

আগের দিনের সাংবাদিক মানে একজন সৎ, নির্মোহ ও সম্মানের পাত্র। আর আজকের দিনের সাংবাদিক মানে দু-টাকার সাংবাদিক ও সাংঘাতিক।

জাতির ক্রান্তি লগ্নেও তারাও আজ অনুদানের ছোবলে বিভক্ত। তাদের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায় যে তাদের বিশেষ দিক নিয়ে কথা বললেই জেল! তার জন্য আছে রাজনৈতিক গোষ্ঠীদের থেকে অভয়বাণী। 

দেখুন, আজকের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন এসব হচ্ছে ঐক্যের নামে তাদের অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার একেকটা সংঘ মাত্র। যেখানে কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ফায়দা হাসিলের জন্য তাদের দেওয়া অনুদানের নামে উচ্ছিষ্ট ভাগ বাটোয়ারা হয়।

আসুন, সাংবাদিকতার নামে হলুদ সংবাদিকতা বন্ধ করি। সাংবাদিকতার মহান আদর্শকে গণমানুষের কাছে তুলে ধরি। সংবাদের ধর্ম ও নৈতিকতার পদস্খলন দেখলেই সাংবাদিকদের সাংবাদিক হয়ে কলম যুদ্ধে নেমে পড়ি।

14/12/2018

ভারত বন্ধু : বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী না রক্ষাকারী

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। তবে শুরু থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগসহ বিএনপি বিরোধীদলগুলোর আপত্তির কারণে শুরু হয় নানা বিতর্ক। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে সরকারের চার উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। নিয়োগ দেয়া হয় নতুন উপদেষ্টা। এরই মধ্যে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এর মধ্যে নানা কারণে-অকারণে তৎকালীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এক চরম রাজনৈতিক সংঘাত, অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতার মধ্যে এক রাতে আকস্মিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। জারি করা হয় সান্ধ্য আইন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীনকে। এসময়ই মূলত রক্ষক যখন ধর্ষক এর মত বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উপর উপর্যপুরি ধর্ষণে মৃত্যুঘটে স্বাধীন বাংলার মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ভোট নামক মৌলিক অধিকারের উপর। এর জ্বলজ্বলন্ত প্রমান: ভারতের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার দি কোয়ালিশন ইয়ার্স, ১৯৯৬-২০১২ গ্রন্থে।

এটি তার দ্বাদশ গ্রন্থ, তার সক্রিয় রাজনীতির শেষ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতার কাহিনী তুলে ধরেছেন। এতে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সময় তথা ২০১২ সাল পর্যন্ত ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে। তিনি ৪৩ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এমপি, লোকসভা ও রাজ্যসভার নেতা, পরিকল্পনা কমিশনের উপ-প্রধান, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী মনমোহন সিংকে নির্বাচন করায় তার আর প্রধানমন্ত্রী হওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত অনেক সময় খুবই উন্নাসিক ও উদ্ধত্যপূর্ণ ধারণা পোষণ করে। আর ভারত যে উপনিবেশ-পরবর্তী বিশ্বে নিজেকে শ্রেষ্ঠ, নব্য-উপনিবেশ শক্তি মনে করে সেটাই অবচেতনভাবে প্রণব বাবু নতুন করে নিশ্চিত করলেন।

তাছাড়া শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রণব মুখার্জির খোলামেলা বক্তব্য সাধারণভাবে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক মানুষজনের কাছে খুবই অস্বস্তিকর। অবশ্য যারা চায় বাংলাদেশ, ভারতের অনুগ্রহভাজন হয়ে থাকুক, তারা বাংলাদেশের ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার হস্তক্ষেপের জন্য চিরকৃতজ্ঞ হয়েই থাকবে।

আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি এমন একটি ঘটনার কথা বলেছেন, যা কার্যত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপই। মুখার্জি লিখেছেন: ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে (তিনি তখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মঈন-ইউ আহমেদ ছয় দিনের সফরে ভারত এলেন। তিনি আমার সাথেও স্বাক্ষাৎ করলেন। অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় আমি তাকে রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার গুরুত্ব বোঝালাম।

তারপর প্রণব উল্লেখ করেছেন, হাসিনা সরকারের আমলে জেনারেলের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগও দূর করলেন এই বলে: ‘আমি ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব গ্রহণ করলাম, জেনারেলকে হাসিনার ক্ষমতায় ফেরার পরও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার আশ্বাস দিলাম। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়নকে দিয়ে আমার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সব রাজবন্দির মুক্তি এবং দেশটির স্থিতিশীলতা প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করলাম।’ বাংলাদেশের সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে ভারতের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আত্মজীবনটিতে আরো বড় ধরনের গোপন তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর হাসিনা আশ্বাস দেন, মঈনই থাকবেন সেনা প্রধানের দায়িত্বে। এছাড়া হাসিনার দুঃসময়ে তাকে ত্যাগকারী আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রণব তিরস্কার করেছিলেন বলেও তিনি তার বইতে উল্লেখ করেছেন। 

তিনি আরও বলেছেন: ‘হাসিনা যখন জেলে ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তাকে ত্যাগ করে। আমি তাদেরকে ধমক দিয়ে বলেছিলাম, খারাপ সময়ে কাউকে ছেড়ে যাওয়া অনৈতিক কাজ।’ এত খোলামেলা আর সততার জন্য প্রণব ধন্যবাদও পেতে পারেন! তবে তিনি জানাচ্ছেন, তিনি নিজে ভারতীয় রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন, ভারতীয় স্বার্থের দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে পরিচালিত করতেন।

এছাড়া ভারত যে সবসময়ই বড় ভাইসুলভ অনধিকারচর্চা করে থাকে, দেশটি বাংলাদেশের জন্য এক মারাত্মক প্রতিবেশী। তার প্রমান প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল সিদ্দিকী একটি ব্যক্তিগত পত্রে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের শীর্ষপর্যায়ের কিছু নেতার কর্তৃত্বপরায়ণতার বিষয়টি বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই লেখককে তিনি পত্রটি লিখেছিলেন ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর। তিনি ২০০৬ সালে নয়া দিল্লিতে শীর্ষ পর্যায়ের একটি বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে কী ধরনের আচরণ করেছিলেন, তার প্রত্যক্ষ অকপট বর্ণনা দিয়েছেন:

“এটি ছিল ২০০৬ সালের মার্চে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক। আমাদের পক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান, মুখ্যসচিব হিসেবে আমি, পররাষ্ট্রসচিব শমশের মুবিন চৌধুরী। বৈঠক শুরু হওয়ামাত্র আমি দেখলাম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সীমা ভয়াবহ মাত্রায় অতিক্রম করে ভারতের সাথে ‘খারাপ ব্যবহার’ নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কামান দাগছেন। আমরা উলফাকে সমর্থন করছি বলেও অভিযোগ করলেন। অভিযোগটা ছিল ডাহা মিথ্যা। তিনি কথা বলার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে অত্যন্ত অমার্জিত ভঙ্গিতে আঙুল তুলছিলেন। বোঝা গেল তিনি ভদ্রলোক নন। তার ব্যবহৃত ভাষা ছিল পশ্চিমবঙ্গের কেরানিদের ব্যবহার করা বাবু ইংরেজি।”

কামাল সিদ্দিকীর ভাষ্যে বাবু প্রণব মুখার্জির পরিচয় জানা যায়। তিনি একসময় ছিলেন উচ্চমান কেরানি। তিনি সাম্প্রতিক অতীতে তার কৌশল এবং বাংলাদেশী রাজনীতিবিদদের অবমূল্যায়ন করা নিয়ে লিখেছেন। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের মধ্যে এমন কাজ তিনি একমাত্র লোক হিসেবে করেছেন, এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অনেক সময় সিনিয়র ভারতীয় সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নেতাদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাধর দেখা যায়। 

আমরা ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের কথা জানি। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন স্রেফ সরকারি কর্মচারী। তিনি পর্যন্ত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তথাকথিত পার্লামেন্টারি নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।

তিনি ঢাকা এসেছিলেন আক্ষরিকভাবেই এরশাদকে চাপ দিয়ে বশে আনার জন্য। ঢাকায় সুজাতা সিংয়ের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পূর্ব পর্যন্ত তিনি হাস্যকর নির্বাচনটিতে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। বৈঠকের পর তিনি তার মন পরিবর্তন করেন। তিনি ভোটারবিহীন নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হন। ভারতের ইচ্ছানুযায়ী এরশাদ আরও পাঁচ বছরের জন্য হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকার বৈধতা দিয়েছিলেন।

উপরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রাজনীতিবিদেরা সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে কংগ্রেসর রাজনীতিবিদেরা তাদের নিজস্ব লোকদের বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন করার জন্য করার কোনো কিছুই বাদ রাখেননি। তাদের সবচেয়ে পছন্দের বাংলাদেশী রাজনীতিবিদদের বেশির ভাগই আছেন আওয়ামী লীগ এবং জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত জাতীয় পার্টিতে।

সম্ভবত মোরারজি দেশাই, ভি পি সিং, আই কে গুজরালকে বাদ দিলে ১৯৭১ সালের পর অধিকাংশ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশের ব্যাপারে ছিলেন অনধিকারচর্চামূলক ও আধিপত্যবাদী। প্রণব মুখার্জির সর্বশেষ গ্রন্থ এবং ২০০৬ সালে বাংলাদেশের সফররত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তার অসৌজন্যমূলক আচরণ থেকে যেটুকু পাচ্ছি তা আসলে ‘ভারতের বাংলাদেশ নীতি’র দৃশ্যমান অতি সামান্য অংশবিশেষ। ভারত আসলে বাংলাদেশের সাথে তার ওপর নির্ভরশীল দেশের মতো আচরণ করে, সার্বভৌমত্ত্ব দেশ হিসেবে বিবেচনা করে না।

অতএব, এখন নরেন্দ্র মোদি, সুষমা স্বরাজ এবং মোদি সরকারের অন্য সদস্যদের কোনো ধরনের ইচ্ছা নেই বা তাদের কোনো হস্তক্ষেপমূলক নীতি নেই, এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

এছাড়া বাংলাদেশ সফরের সময় সুষমা স্বরাজ কী করেছেন দেখুন। তিনি তথাকথিত বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাথে সাক্ষাত করেননি। এর বদলে তিনি খালেদা জিয়ার (হাসিনার অপছন্দ সত্ত্বেও) সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। 

এর কারণ কি? নয়া দিল্লির অগোপন বাংলাদেশ বিরোধী অ্যাজেন্ডা যা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত নয়।

ভারতের বাংলাদেশ নীতি প্রসঙ্গে মনমোহনের চেয়ে মোদিকে অনেক ভালো বিকল্প বিবেচনা করা এবং প্রণব মুখার্জির চেয়ে সুষমাকে ভালো মানুষ বিবেচনা করার চেয়ে হিতে বিপরীত যা  ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে "গণতন্ত্রের জন্য অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদীয় নির্বাচন ভালো নয়"- এমন উপদেশ বাংলাদেশকে দিয়েই বসলো সুষমা স্বরাজ !

তাছাড়া, স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫ এ শেখ মুজিব হত্যার পর ভারতের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশকরে যে শেখ মুজিব হত্যা মূলত ভারতের ইন্দনেই হয়েছে। এ যুক্তির মীমাংসায় যাবার আগে ভারতের খ্যাতিমান ও প্রবীণ সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারের অতি সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের দিকে পাঠকের দৃষ্টি ফেরাতে চাই। ভারতের ‘দ্য ট্রিবিউন' পত্রিকায় প্রকাশিত [২৫-০৮-১০] এক নিবন্ধে কুলদীপ নায়ার শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড ঠেকাতে ভারতের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন। ‘‘ভারতের স্বাধীনতা দিবসের একইদিনে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের ঘটনা ভারতের জনগণ কোনদিন ভুলতে পারবে না’’ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘‘প্রকৃতপক্ষে এই অনুতাপ চিরদিন আমাদের থেকে যাবে। কারণ, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অাঁচ করতে পেরেছিল, শেখ সাহেবের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ঘটবে। কিন্তু শেখ সাহেবের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, ঢাকাকে এটুকু অবহিত করা ছাড়া এ ঘটনা ঠেকাতে আমরা কিছুই করিনি।’’ প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত ও তার সমর্থক অনুগামীরা যদি দৃঢ়ভাবে এটা বিশ্বাস করেন যে, একাত্তরের পরাজিত শত্রু, তথা পাক-মার্কিন অক্ষ মুজিব হত্যার নাটের গুরু, তাহলে ভারতের নিষ্ক্রিয়তার সমীকরণ তারা কিভাবে টানবেন? ভারতের এই ‘কিছুই না করার' ব্যর্থতা কী নিছক অমনোযোগিতা না দুর্ঘটনা? নাকি মুজিব হত্যার রচিত দৃশ্যপট বাস্তবায়ন কামনা করে ভারত তাকে পরোক্ষ সমর্থনে সফল করে তুলেছিলো? 

ঢাকায় ১৫ আগস্ট যে অভ্যুত্থান ও বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র'-এর অজ্ঞাতসারে তা ঘটেছে বলে কেউ বিশ্বাস করেন না। এ প্রশ্নে যাবার আগে মুজিব হত্যার পর ভারতের খ্যাতিমান সাহিত্যিক অন্নদা শংকর রায় পশ্চিম বাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়সহ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যকার আলাপচারিতার একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। অবশ্যই সেটা মুজিব হত্যার ঘটনাকেন্দ্রিক। 

অন্নদা শংকর লিখেছেন : ‘‘আমি কাঁদতে কাঁদতে একটা প্রবন্ধ লিখি। নাম রাখি- ‘‘কাঁদো, প্রিয় দেশ।’’ সেটি পাঠিয়ে দেই ‘দেশ' পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের কাছে। সাগরময় ঘোষ সেটি ফেরত দিয়ে লিখেন : ‘‘ছাপাতে পারা যাবে না মুখ্যমন্ত্রীর বারণ।’’ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সাথে অন্নদা বাবু দেখা করে এর বৃত্তান্ত জানতে চাইলে তিনি তাঁকে বলেন : ‘‘ঢাকায় যা ঘটেছে, তা আরও ভয়ানক। শোনা যাচ্ছে, চার হাজার লোক মারা গেছে। এমন অবস্থায় এই প্রবন্ধ প্রকাশ না করাই ভালো। এই প্রবন্ধ প্রকাশে হয়তো এক কোটি লোক এপারে এসে শরণার্থী হবে। আমরা মারা যাবো। ’’ অনেক পীড়াপীড়ির পর মুখ্যমন্ত্রী লেখাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর মতামতের জন্যে সেটি অনুবাদ করে দিল্লী পাঠান। অন্নদা বাবু লিখেছেন : ‘‘কিছুদিন পর পেলুম শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর লেখা এক চিঠি। 

তাঁর মতে, আমার প্রবন্ধ প্রকাশ করা হলে ভারত সরকার হবে বিব্রত। সুতরাং ওটি প্রকাশ না করাই উচিত। তাঁরই তো শোক প্রকাশ করা উচিত। তাঁর সরকারেরতো উচিত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা। তাঁরইতো উচিত সরকারিভাবে শোক প্রকাশ করা। কয়েকমাস পরে আমি আবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রবন্ধটি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেই। তিনি নিরুত্তর। আবার কয়েকমাস পরে চিঠি লিখি। তিনি নিরুত্তর। আবার কয়েকমাস পরে চিঠি লিখি। তিনি নিরুত্তর। আবার কয়েকমাস পরে চিঠি লিখি। তিনি নিরুত্তর। 

তখন নিতাই মজুমদার নামে একজন নতুন প্রকাশক প্রস্তাব করেন যে, তিনি আমার প্রবন্ধটি আরও কয়েকটি প্রবন্ধের সাথে মিলিয়ে বই করে প্রকাশ করতে চান। বইয়ের ওপর সেন্সরশিপ নেই। ‘কাঁদো প্রিয় দেশ'-নামে বই হয়ে বের হয়। ভারতীয় নাগরিক অন্নদা বাবুর মনে যে প্রশ্নের দহন, বঙ্গবন্ধুভক্তদের মনে এমন প্রশ্ন নেই কেন? 

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশ বিরোধী প্রকাশনাকে বরাবর উৎসাহ দিয়ে প্রকাশ করে, সেখানে মোশতাক সরকারের সময় ভারত সরকার কেন এই সেন্সরশিপ আরোপ করেছিল?

এবার আর কিছু বুঝতে বাকি থাকেনা যে, ভারত শুরু থেকেই বন্ধু হয়ে বাংলার জনগণের ভাষা না বুঝে বরং ১/১১ এ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে গণতন্ত্রের স্বাধীনতার নামে মৃত্যুর আয়োজন করেছিলো। 

25/11/2018

অপূর্ণতার বেটার || আরিফুল ইসলাম


পৃথিবীর কোন মানুষই কি 
পারফেক্ট হয় বলো?
যার চেহারা যত সুন্দর, 
তার মানসিকতা কি তত হয় ভালো?

যে শান্ত-শিষ্ট-নম্র-ভদ্র স্বভাবের
দেখো সে হয়তো স্বার্থপর।
আর যে নিঃস্বার্থ-
সে হয়তো কেয়ারিং করবে না তোমার। 

তোমার মনটা যার জন্য বাঁঝা 
সে কি ত্যাগী স্বভাবের ?
না কি তুমি এ জীবনে 
বসে থাকা এক ভীমরতি বেটার পানের ! 

জীবনে শুধু একটু ছাড় দাও
তা না হলে পিছে ফিরে দেখবে তুমি, 
তাকেই হারিয়ে ফেলেছো
যে ছিলো তোমার পূর্ণতার বেটার ভূমি।

টেমি || আরিফুল ইসলাম




আশার সোলতে 
সবাই পাকায় 
প্রদিপ জ্বালে 
কয়জন?

তবে আমি সূর্য,
মঙ্গল প্রদীপ কিংবা
হীরক রোশনী নই 
আমি সোলতে? 

জ্বলে সোলতে, 
কাঁদে টেমি 
তবুও টেমির মত
আলো বিলায় 
কয়জন?

তবে আমি বিদ্যুৎ, 
আমি ঝাঁড়বাতি কিংবা 
মোমবাতি নই 
আমি টেমি হ্যাঁ?
আমি টেমি

কুয়োর ব্যাঙের কবলে দেশ, আমাদের শান্তি কোথায়?

নির্ভাগা প্রেম || আরিফুল ইসলাম


রাহী,
তোকে অনেক বেশী সন্দেহ করতাম।
প্রয়োজনের তুলনায় তোকে অনেক কষ্টে রাখতাম, 
তোর উপর বেশ মানসিক অত্যাচার করতাম। 
কেনো জানিস ? 

প্রথম প্রহরে- 
তুই নিজে অনেক কাঁদতিস।
দুই প্রহরে তুই নিজেই আবার ফোন দিতিস। 
এর মধ্যে সব ভুলে-
তিন প্রহরে; বাবু, সরি ! এই দেখো আমি কান... এই দেখো 
এই ! একটা ডুয়ো কল দাও না। 

জানিস,
তোর অনেক কথা'র মধ্যে একটা কথা
আজও ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় আমার শ্রবন্দ্রে।  
"বাবু, তুমি আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলো 
কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেও না"।
কি মিনতী ! কি আকুতি !
মনে হতো আমি তোর 
কলজে ছেড়া সাত রাজার ধন!

আর ওমনি, সুযোগে বুঝে 
আমার মনের টানে ভাটা দিতাম।  
ফোনের লাইন কেটে দিয়ে ওয়েট করতাম, 
তিন বার কখন ফোন দিবি- 
কখনও বা ইচ্ছা করে লাইন বিজি রাখতাম।   
তুই হয়ত ভাবতিস,
আমি অন্য কোন মেয়েকে ভালোবাসি!

আজ আমাদের ভালোবাসার জন্মদিন 
আমাদের সম্পর্কের ছয় বছর পেরিয়ে 
সাত বছরে পা দিলো। 
সেই সাত সাতটা বছর পরেও তোকে 
আগের মত ভালোবাসি!

ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি 
বলতে বলতে তুই এর মধ্যে রং পাল্টালি !
তোর বয়ফ্রেন্ড দিয়ে আমার উপর...
না থাক !
ওকে নিয়ে সুখে থাকিস।

জানিস, 
আজও কারও সাথে কথা বলতে বলতে
মনের অজান্তে তোর পাপিষ্ঠ নামটা
উচ্চারিত হয়। 
তারপর বে-খেয়ালি হাসি দিয়ে বলতে হয় 
সরি সরি সরি ...

বুঝলিনা, 
ওযে ছিলো তোর ভালোবাসার স্বাদটুকু 
নিংড়িয়ে আস্বাদন করতে
সুযোগের অপেক্ষায় লুকিয়ে থাকা
নির্ভাগা মোহময় 
ভালোবাসা!

সে তোমার ক্যানভাসে নেই || আরিফুল ইসলাম



আচ্ছা-
ধরো তুমি আজ রাতে
সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে গেলে।
এরপর কি হবে জানো?

জানোনা,
সকালে পুলিশ এসে তোমাকে নামাবে,
বাবা-মা আত্নীয় স্বজন
হাউমাউ করে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করবে।
এরপর গোসল করিয়ে
তোমাকে কাফন পরাবে।

তারপর,
জানাজা শেষে তোমাকে কবর দেবে।
ব্যাস! এতটুকুই,
ল্যাঠা চুকে যাবে, তাই না?

এরপর এক এক করে
প্রিয়জনেরা বিদায় নিবে,
যাবার সময় তোমার বাবা-মা'কে বলবে।
ধৈর্য ধারণ করো,
ওর কপালে ওই ছিলো!
তবুও তোমার বাবা- মা কাঁদবে,
কাঁদতেই থাকবে।

শেষ তো। আবার কি?

ওহ তুমি ভাবছো,
যার জন্য মরলাম সে গেলো কই?
হা... হা... হা...
সে তোমার ক্যানভাসে নেই !

বিশ্বাস করো,
তুমি মারা যাওয়ার পর
পুলিশি ঝামেলায় জড়িয়ে যাবে বলে
সে তোমার মরা মুখও দেখতে আসবে না।

এরপর এক থেকে তিন সপ্তাহ
তারপর-
সে ঠিকই অন্য জনের সাথে...

মাঝখানে
তুমি শুধু থাকবেনা!
তাই জীবনে প্রেম করো আর যাই করো
তবে আত্মহত্যা নয়।

19/07/2018

আরেকবার হারাবো || আরিফুল ইসলাম


বলতে পারিস এ মন কেন তোকেই শুধু মাগে ?
পরের জায়গা, পরের জমি 
তবুও কেন 
আমার আমার লাগে !

নিশপিশ চেনা চেনা 
ভয় ভয় ইচ্ছে গুলো তোর চোখে হয় কেন নিখোঁজ 
কেন তবে আনলিনা তুই 
ভালোবাসার লাল গোলাপটা বসন্তরেই আগে ! 

কখনো যদি এমন হয়
ভালবাসার নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকা তোর প্রেমেরী হাতছানি
সব শেষের শুরুতে শুধু তুই আর আমি
আরেকবার হারাবো আমি তোর বাগে।

ও দিন মুছে যাবে স্মৃতি
মিষ্টি হাসির প্লাবনে ভেসে যাবে হৃদয়টা পাবে তৃপ্তি
জানি সেদিন ভাসবে কি ও চোখে
জীবনের সপ্ত ডিঙা রাগে।

আপেক্ষিক টান || আরিফুল ইসলাম



তুই, আমি আর ইন্টারনেট 
এর মধ্যে কোনো তফাৎ নাই। 
সবই টান-

গত শতাব্দীর সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 
দুটি তত্ত্ব ছিলো-
আপেক্ষিক তত্ত্ব আর কোয়ান্টাম তত্ত্ব।

কোয়ান্টাম তত্ত্ব বৃহৎ ও জগতের তুই  
আর আপেক্ষিকতার তত্ত্ব 
এ জগতের আমি।  

আপেক্ষিকতার তত্ত্ব যেহেতু 
চৌম্বক তত্ত্বের উপর নির্ভর 
তাই তোর আর আমার মাঝে
ও টানটি রয়েছে। 

এ জন্য হয়তো এ ধরা ফিরে পাবে
ঈশ্বরকণা।

06/10/2017

প্রত্যাখত এক মানুষের মনোস্তাত্ত্বিক কবিতা: যদি হারো



যদি হারো 
আরিফুল ইসলাম 

আমি যাচ্ছি না তোমার 
এক কাপ চায়ের দাওয়াতে। 
কারণ-
তোমার মনের 
ছফেদ মাশরুমে 
হয়তো ছাতা ধরেছে-

তাইতো  
আমি যাচ্ছি না তোমার 
এক কাপ চায়ের দাওয়াতে। 

ও চোখের ঈশাণ কোণে 
সিঁদুরে বর্ণিল মেঘ,
হয়তো ঝড়- 
না হয় বৃষ্টির শংকা। 
কেন ও মধুর সোনালী জীবন 
শংকায় কাটবে? যদি পড়ো আমাতে-

তাইতো  
আমি যাচ্ছি না তোমার 
এক কাপ চায়ের দাওয়াতে। 

28/09/2017

প্রেমহীন অনূভতির একটি কবিতা "ডেমো প্রেম"



ডেমো প্রেম
আরিফুল ইসলাম।

তোমার কাছে কি একটু ভালোবাসা হবে?
আমি ধার নিতে চাই।
না হয় তুমি আবার ফেরৎ নিয়ো।
আসলে-
যে কথাগুলো আজও হয়নি বলা,
শুধু সে কথাগুলো বলতে চাই।
কারো হাতটি ধরে কক্ষনো হয়নি হাটা,
শুধু একটি বার-
তোমার হাতটি ধরে ওপথে হাটতে চাই
আর শুনতে চাই,.আমার প্রাণ ধরিয়া মারো টান-
আমি এয়ার ফোনের ডানে, আর তুমি বামে 
তাল লয় আর সুরে সুরে, ছন্দ তাল, আর দুলে দুলে।
দখিনা সমিরণ-
তোমার এলো চুলে আলতো ছোঁয়ায়
আমার নেত্রে আনবে জানালা
আর ঘ্রাণে মেশক-এ আম্বর
সে যেনো ডিভাইন এক পাগলাটে অনুভূতি-
না হয়, সে সময় তুমি সামনে হেটো
আর আমি ফিরবো উল্টো পথে
যে পথে তোমার ধারকৃত ভালোবাসার
স্মৃতি রবে- 

09/09/2017

প্রেমের চুলকানি, নারী স্বাধীনতা এবং ধর্ষণের এলিভেটর

কালের কলম // আরিফুল ইসলাম: 
এটি ছিলো একটা আর্ট, একটা শিল্প। যেখানে ছিলো স্বপ্নীল একটা অনুভুতি ! স্বর্গীয় একটি ব্যাপার। ছিলো রহস্যঘেরা একটা জিনিস। যার জন্য একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো দুজনকেই। ছিলনা মোটেও সহজলভ্য। অনুভূতিটা ছিলো ১০০% পিওর।

কথাগুলো বলছিলেন; সে সময়ের মডার্ন অতিবৃদ্ধ এক দাদি, যার বয়স ৭০ এর কাছাকাছি। তার মতে তখনকার প্রেম বলতে শুধু অনুভব-অনুভুতি, ভালোলাগা, চোখা-চোখী আর উঁকি-ঢুকি। এখনকার মত মাখামাখি নয়।

টেলিফোনের অপর প্রান্তে কথা, ডেটিংয়ে অন্তত ৫০ হাত দূর থাকা আর চোখে চোখ রাখা অন্যরকম একটা ব্যাপার স্যাপার। আর বিয়ের পরে সে অনুভূতির বাস্তবতার ঘরে ফেরায় কি সে সুখ। কি সে আনন্দ!

তার সাথে কথা বলা প্রতিবেশীর অনেক ছেলের বৌ, নাতি বৌ, পুতি বৌ ও পাড়ার অনেক মেয়েরাও আজ সেই অনুভূতি, আনন্দ ও উপভোগ খুঁজে পায়না। তাদের কাছে এটা যেন ঝালমুড়ির মত একটা ব্যাপার। কাগজের ঠোঙ্গায় নিয়ে হাটতে হাটতে খাওয়া আর খাওয়া শেষ হলে ঠোঙ্গাটাকে ছুড়ে ফেলা!

অথচ সেদিনের প্রেমে ছিলনা যৌনতা আর খুল্লাম খোলো অবস্থা। ছিলনা কোন মাখা মাখি। ছিল বিশ্বাসের একটা চতুরবন্ধন আর পবিত্রতা।  

আসলেই বাস্তবতা কিন্তু এমনই; এখন যত্র-তত্র প্যাকেট প্যাকেট যৌনতা কিনতে পাওয়া যায় হর হামেশাই। আর লিটনের ফ্লাটগুলোতেতো পাওয়া যায় বিনে পয়সায়। যেখানে ভালোবাসার কোন স্পর্শ নাই, নাই কোনো স্বর্গীয় অনুভুতি ও গ্রান্টিহীন উপভোগ্যতা!

এখন যেন সাময়িক সুখের জন্য মাতাল এক উম্মাদনা! ঘোর শেষ, তো সব শেষ। এবার সব দোষ ঐ খাঙ্কির ছেলের! 

আচ্ছা, আপনার হৃদয়ের অন্তর চক্ষু ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উপলব্ধি করে দেখেন তো, দোষ কি আপনার একটুও ছিলো না?

আহারে, মায়ের জাতী! একবারও কি ভেবে দেখলে নাঃ-

প্রেম করেছো নিজের ইচ্ছায়। হোটেলে গেছো নিজের ইচ্ছায়। প্রেমিকের সাথে যখন তখন ফোনে সেক্স করেছ তাও লুকিয়ে লুকিয়ে, সেটাওতো নিজের ইচ্ছায়। কেওতো তোমাকে শিখিয়ে দেয়নি। বরং তোমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিতে চাইলে তুমি আত্মহত্যার হুমকি দিছো। ডেটে গেছো পরিবার সাথে মিথ্যে বলে। শরীরের জায়গায় জায়গায় হাত দিতে দিয়েছো, সেও তো তুমি নিজেই সুখ নিছো, না কি ঐ খাঙ্কির ছেলেটা শুধু একাই সুখ নিছে?

তোমার চাকে মধু জমেছে বলে তুমি অবৈধভাবে যাকে ইচ্ছা তাকে দিলে? বুঝলে না। এটা বৈধ, না অবৈধ। খাওয়া শেষে কেও কি আর বসে থাকে?

সে তো তোমার মধু টেস্টের নামে তোমার চরিত্রটাও টেস্ট করে গেলো।

বুঝলে না, করলে ফেল!

এখন বলছো, পৃথিবীর সব ছেলেরাই খারাপ!

হায়রে, তুমি যে খারাপ ছেলেটাকে বেছে  নিয়েছিলে, তা তো বলো না! তোমাদের তো এসব লুচু ছেলেদেরই পছন্দ, যারা লুতু পুতু কথা বলে মেয়ে পটাতে পারে তাদেরকেই তোমরা বেছে নেও। কখনো কি বুঝার বা জানার চেস্টা করেছ, একজন ছেলের পারসোনালিটি বলতে কি বুঝায়?

যে ছেলে তোমার পিছে পিছে ঘুরে, তোমাকে ইম্প্রেস করছে কিসের আশায়? তোমার কি মোটেও সুখের সুড়সুড়ি লাগেনি সেসময়? কোন ভরসায় তুমি তারে সব দিলে? একবারও ভাবলে না, তোমার মতো সে অন্য মেয়ের পিছে ঘুরবে না? তোমার স্বাদ পাওয়ার পর সে হাঁটবে না?

তুমিতো এমন শিকারের একমাত্র পাত্রী নও, তোমার সামনে ঘটছে এমন নানা  ঘটনা।

কিন্তু এসবের পরও তুমি যে নিজেই তার হাতে তোমার সম্ভ্রম তুলে দিয়ে তাকেই গালি দিচ্ছো। একবারও কি ভাবলেনা ওই ছেলে নিশ্চিত বাইরে বলে বেড়াবে "ওই মেয়েটা ভালো না আমিও করেছি"।

এই কথা তো আর মিথ্যা না। তাকে এই কথা বলার সুযোগতো তুমিই দিলে, না কি? এরপরও পুরুষ জাতিকে বলছো খাঙ্কির ছেলে।

এবার তোমার বাবা-মা এখন যার সাথে বিয়ে দিবে, তাকেই বেছে নিয়ে চুপ থাকবে। তাইতো না কি?

আচ্ছা, তোমার এই ব্যবহৃত শরীরকে, সতীত্বের মিথ্যা মোড়কে পেচিয়ে, তাকে উপহার দিতে তোমার কি একটুও লজ্জা করবে না?

আর কবে বুঝবে, বাবা-মা যা করে সন্তানের ভালোর জন্যই করে। তবে আগে কেন এমন করতে গেলে? বাবা-মার উপর কি মোটেও ভরসা ছিল না তোমার? নাকি প্রেমের টা তোমার বেশি ছিল?

তুমি বুঝবা কবে, তুমি দুই পয়সার হ্যের, তুমি পণ্য। এখন ভাবতো, বাজারের ঐ পণ্যগুলো যারা তাদের শরীর বিকিয়ে দিতে পুরুষদেরকেই ক্রেতা হিসেবে ডাকে; লাগবে না কি? আছে। কচি কচি আছে! আসেন এদিকে আসেন। মাত্র ৩০ টাকা।

হায়রে নারী! তোদের স্থান ওদের বুকে আর তাদের স্থান তোদের পায়ে।

তবে কেন চুলকানির জন্য আজ ওদের কাছে পণ্য!

এখন তার থুথু খেতে কেমন লাগছে?

যেখানে তোমার বুকভরা ভালোবাসা পাওয়ার কথা, সেখানে করে দিচ্ছ তুমি ধর্ষণের এলিভেটর স্বচল।

05/09/2017

একটি অজানা শঙ্কা ও আগাম প্রেম বিচ্ছেদ !!!

কালের কলম // আরিফুল ইসলাম

প্রিয়তমা আমার : কোন এক দিনে তুমি আমার উপর ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে তোমার পরিবারকে বলে দিবে, "পরিবারের সম্মতিতে তোমার বিয়ে করতে আপত্তি নেই"!

তুমি সবসময় চেয়েছো, সাজানো গোছানো ছোট্ট একটা সংসার এবং ছোট ছোট হাত-পা’ওয়ালা ফুট-ফুটে চাঁদের মত একটা বাবু সোনা।

-কিন্তু আমি বরাবরই উদাসীন, খামখেয়ালিতে ভরা এবং স্বপ্নহীন এক যুবক।

-তুমি আমায় অনেক বুঝিয়েছো, কিন্তু আমি বুঝিনি।

-দিনের পরে দিন অপেক্ষা করেছো, কিন্তু তাও বুঝিনি। অবশেষে তোমার এই সিদ্ধান্ত-

জান আমার: একটি নিদিষ্ট দিনে তোমার বিয়ে হবে। কতো আনন্দ করবে তোমার বাড়ির সবাই। তোমার বাবার আত্মার শান্তি পাবে। তোমার মাও মরতে পারবে নিঃশ্চিন্তে।

সেদিন তুমি লাল শাড়ী পড়বে। কি সে অপূর্ব লাগবে তোমায়। যা দেখে তোমার দুলাভাইরা মনে মনে ভাববে "ইশ আগে যদি বিয়ে না করতাম"! আর সে কথা আস্তে আস্তে তোমার কানে এসে বলে যাবে আর তুমি মুচকি হেসে বলবা "দূর'হ"।

কত কল্পনার আল্পনা এঁকে বসে থাকবে মনে মনে। তোমার দেবতা তোমাকে মোটর সাইকেলের পিছে বসিয়ে নিয়ে যাবে তোমার কল্পনার সংসারে। আর তোমার মেঘলা চুল গুলো বাতাসে উড়বে। কি সে অপূর্ব এক দৃশ্য। হঠাৎ ব্রেকে ছোট্ট একটা চাপ আর ওমনি তোমার বুক তোমার দেবতার পিঠে আলতো করে ছু'লে তোমার দেবী কণ্ঠ বলে উঠবে "এই আস্তে চালাও" তোমার দেব বলে উঠবে আমাকে শক্ত করে ধরো! কি এক ভালোলাগা তাই না?

তারপর বাড়ি ফিরবা।

সন্ধ্যায় তুমি সাদা শাড়ী পরে বসে থাকবে কখন তোমার দেবতা আসবে সেই অপেক্ষায়; গায়ে পানি ছিটিয়ে দিবে, চিমটি কাটবে, লাথি মারবে আবার কপালটা ধরে ছোট্ট চুমু এঁকে দিবে তার ললাটে। কত সুন্দর হবে সে খুনসুটি যেনো "বেহেস্তের ফুলের বাগান"।

তুমি আমাকে নিয়ে ভাবতে আর আমার বুকে মাথা রেখে দুচোখ বুজে কল্পনার রাজ্যে ঘুরে ঘুরে বলতে এগুলো।  

প্রথম যেদিন শুনবো তোমার বিয়ে,
আমি বলবো-
"ধুর, তা হতেই পারে না"।

তারপরে তোমার ফোনে ফোন দিতেই "এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না"। তারপর তোমার মেসেঞ্জারে টেক্সট করতে যেয়ে দেখবো আমি "ব্লকড"! ইমো, হোয়াটস্যাপ, ভাইবারে মেসেজ সেন্ডই  হচ্ছে না। মানে আনইনস্টল করা।

কিন্তু সে দিন থেকে বুঝবো আর পুড়বো।

আমার ইমো, হোয়াটস্যাপ, ভাইবার স্থির হয়ে যাবে। টুং টাং শব্দ করে একটা মেসেজও আর আসবে না। সারাদিন ফোন করে কেউ খোঁজ নিবে না।

সে দিন থেকে আমার পায়ের নীচের মাটি একটু একটু করে দিনে দিনে সরে যাবে।

হৃদয় নন্দিনী আমার : আমি কখনো তোমায় বুঝাতে পারবোনা জানি‘ আসলে আমি এমনই, একটু বেহিসাবি, একটু খামখেয়ালি, একটু উদাসীন। পৃথিবীতে সবাই কি সব গুনাবলী নিয়ে জন্মগ্রহণ করে? বলো?

কিন্তু আমি একটা বিষয় নিয়ে জন্মেছিলাম। আর তা হলো "অন্ধভাবে বিশ্বাস এবং অফুরন্ত ভালোবাসার স্পৃহা নিয়ে"।

কিন্তু বাস্তবতা এবং আগামীর ক্যালকুলেশনে আমি হয়তো বড়ই বেমানান।

তাই তোমার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগতম!

প্রিয় স্বপ্নচারণি আমার: যখন তুমি কোনো অনাগত সন্তানের মা, কারো আদর্শ স্ত্রী এবং কোন সংসারের আদর্শ ঘরনী হবে। তখন আমি হবো মৃত্যু পথযাত্রায় মুক্তি ব্রত এক বেহিসাবি যুবক।

-যদি কোন একক্ষনে  শুনতে পাও, কোন এক ফালতু ছেলে মাটির এই পৃথিবী থেকে মুক্তি নিয়েছে।তখনও কি তোমার চোখের কোণের সেদিনের ঝরানো জল কি এ ফালতু ছেলের জন্য একটুও ঝরবে?

-যদি জানতে পারো, যে হাত দুটো ধরে একসময় কত সহস্র মাইল পথ চলেছিলে এবং সহস্র লক্ষাধিক স্বপ্ন একেঁছিলে, সেই হাত দুটো আজ নিথর পড়ে আছে। তবে তোমার কি কিছু মনে হবে?

-যদি সেদিন রাতে, তোমার দেবতা তোমাকে বিছানায় ডাকে, তোমার দেবতা যদি খুব করে চায় "তোমাকে যুগলবন্দী" করতে! তবে সে দিন কি আমার আত্নার শান্তি কামনায়, তুমি কি তাকে না করতে পারবে?

না কি যোগ্য দেবতার যোগ্য দেবী হয়ে তাকে বুকের মধ্যে টেনে নিবে?
না কি তোমার সব অতীত মুছে গিয়ে, তোমার দেবতার পিঠের চামড়া তোমার হাতের নখের মধ্যে চলে আসবে?

নাহ, তা আমি আর চাই না!

“চাই এ পৃথিবী থেকে মুক্তি "